সমান্তরালেই এগোচ্ছে কেইন আর ইংল্যান্ডের স্বপ্ন

সমান্তরালেই এগোচ্ছে কেইন আর ইংল্যান্ডের স্বপ্ন

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০০৫। ডেভিড বেকহাম ফুটবল একাডেমির উদ্বোধন হবে লন্ডনের বাইয়ি হোয়ার্ফে। এ উপলক্ষে বেশ কিছু স্কুলের বাচ্চাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১১ বছর বয়সী দুই অভিন্ন-হৃদয় বন্ধুও সেই সৌভাগ্যবানদের দলে। ছেলেটির মাথায় কদমছাঁট চুল, সামনের দাঁত দুটো একটু উঁচু; মেয়েটির মাথায় দুই পাশে বেণি ঝোলানো। ইংল্যান্ডের ফুটবল অধিনায়কের সঙ্গে ছবি তুলতে পেরে কী খুশি ওই দুজনের!

২০১৮। ১৩ বছর পরের সময়টায় কত কিছুই না বদলে গেছে! শৈশবের প্রেমের পরিণতিতে ওই ছেলে-মেয়ে দুটি এখন পরস্পরের জীবনসঙ্গী। তাঁদের প্রথম সন্তান আইভি এসেছে পৃথিবীতে, দ্বিতীয়জনও আসার পথে। আর বদলে যাওয়া পৃথিবীতে সেই ছেলেটি এই বিশ্বকাপে বেকহামের উত্তরসূরি হয়ে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। হ্যারি কেইন।

আর শুধু অধিনায়কই নন, ইংল্যান্ডকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তোলার নায়ক। ৫২ বছর পর দেশের বিশ্বকাপের স্বপ্ন সমর্পিত এই স্ট্রাইকারের ওপর। ছয় গোল করে নিজেও রয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জেতার কক্ষপথে। আজ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালের গুরুত্ব তাই কেইনের কাছে অন্য রকম না হয়ে পারে না!

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই শোরগোল ওঠে ইংল্যান্ডকে নিয়ে। গণমাধ্যমের সৌজন্যে তাদের সব প্রজন্মই ‘সোনালি প্রজন্ম’। সাফল্যের খাতাটি যদিও শূন্য বরাবর। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ বাদে আর কোনো শিরোপাই যে কখনো জেতেনি! না বিশ্বকাপ, না ইউরো। সেই ইংল্যান্ডকে নিয়ে এবারই বরং প্রত্যাশা ছিল না সেভাবে। সে দেশের গণমাধ্যমের মুখরোচক শিরোনাম মুখরিত ছিল না এই দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে। অথচ প্রত্যাশার উজান বেয়ে সেই ইংল্যান্ডই কিনা উঠে এসেছে সেমিফাইনালে। আর তা অবশ্যই কেইনের বীরত্বে।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কিন্তু তিনি ছিলেন না। জর্ডান হেন্ডারসনের কাছে ছিল আর্মব্যান্ড। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে আগে কোচ গ্যারেথ সাউথগেট দায়িত্বটা দেন কেইনের কাছে। সে দায়িত্ব পেয়ে কেমনভাবেই না ঝলসে উঠলেন এই স্ট্রাইকার! এরই মধ্যে চার খেলায় করে ফেলেছেন ছয় গোল! ১৯৮৬-র গ্যারি লিনেকারের পর প্রথম ইংরেজ হিসেবে ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের জোর দাবিদার কেইন। আর ১৯৬৬-র পর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপালেও লেগেছে হাওয়া।

ছোটবেলায় আর্সেনাল একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিলেন প্রথম। এক বছর পর বাদ দেওয়া হয় ‘যথেষ্ট ভালো নন’ বলে। সেই কেইন এখন টটেনহাম হটস্পারের কিংবদন্তি। বেকহামের জার্সি পরা ছেলেটি চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। আগের প্রজন্মে দেশটির সেরা স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি তিন বিশ্বকাপ খেলে দেন এক গোল; সেখানে এক বিশ্বকাপের চার ম্যাচেই ছয় গোল হয়ে গেছে কেইনের। তাঁর আদুরে নাম ‘হারি কেন’-এর গতিতেই লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। কেইনের গোল্ডেন বুট এবং দেশের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এগোচ্ছে একই সমান্তরালে।

আজ ক্রোয়েশিয়া কি আর পারবে সে পথে বাধার প্রাচীর তুলতে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *