ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত-১

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত-১

ফরিদপুর কন্ঠ রিপোর্ট #
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্টপুর বাজার এলাকায় সোমবার সকালে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ১জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ পুলিশসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। ঘন্টা ব্যাপী দুপক্ষের এ হামলায় কৃষ্টপুর বাজারের ৪০টি দোকান ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ১৭ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ১৩৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কৃষ্টপুর বাজার এলাকায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক হিসাবে পরিচিত যুবলীগ নেতা আকতারুজ্জামান তিতাসের সাথে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গ্রুপের সমর্থক, কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের বিরোধ চলছিল। বিগত দিনে এলাকার আধিপত্য বিস্তার, স্থানীয় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে এই দু নেতার মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ হাটকৃষ্টপুর বাজারের ইজারা ও বিল্লাল চেয়ারম্যানের সমর্থক এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা নিয়ে দুপক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রবিবার দুপুরে বিল্লাল চেয়ারম্যানের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট ইনজামামুল হক মিঠুকে যুবলীগ নেতা তিতাসের লোকজন ফরিদপুরের আদালত এলাকায় লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সন্ধ্যায় দুইপক্ষের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। এসময় বেশকিছু বাড়ী-ঘর, দোকান পাট ভাংচুর করা হয়। সোমবার সকাল ছয়টার দিকে বিবদমান দুইগ্রুপ কৃষ্টপুর বাজারে দুই পাশে জমায়েত হয়ে একে ওপরের উপর হামলা চালায়। হামলায় তিতাসের সমর্থক হিসাবে পরিচিত মান্নান সিকদার (৫৫) কে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। নিহত মান্নান সিকদার রাধানগর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র। এসময় পাল্টাপাল্টি হামলায় বাজারের কমপক্ষে ৪০টি দোকান ও কয়েকটি বাড়ী ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ব্যর্থ হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সদরপুর থানা ও পুলিশ লাইনের ৯ পুলিশ আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, সদরপুর থানার এসআই মোঃ আক্কাস শেখ, এএসআই সাইফুর রহমান, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এমসআই মেহেদী হাসান, ফরিদপুর পুলিশ লাইনের এমসআই লুৎফর রহমান, এমসআই জাকির হোসেন, এমসআই দেলোয়ার হোসেন, পুলিশ কনস্টেবল আলামিন ও বিল্লাল। আহত পুলিশ সদস্যদের ফরিদপুর পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। এয়াড়া সংঘর্ষে আহতদের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফরিদপুর সদর হাসপাতাল এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ১৭ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ১৩৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। পরে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সদরপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করে। ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকির অভিযোগ করে বলেন, তিতাস তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি করে চলেছে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই সে তার বাহিনী নিয়ে হামলা চালায়। রবিবার ও সোমবার তিতাস বাহিনী কৃষ্টপুর বাজারে হামলা চালিয়ে দোকান ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট করে। এদিকে, যুবলীগ নেতা আকতারুজ্জামান তিতাস পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিল্লাল চেয়ারম্যান ও তার ভাই এলাকায় ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে রেখেছে। এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করেন না। ইতিপূবে চেয়ারম্যানের লোকজন আমার পক্ষে দুইজনকে খুন করেছে। বাড়ী ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে আছে। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *